
অন্ধ্র উপকূলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বাংলাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও পুদুচেরির ইয়ানাম উপকূলে অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আছড়ে পড়েছে। বুধবার ভোরে স্থলভাগে আঘাত হানার সময় এর স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার, আর সর্বোচ্চ গতিবেগ ১৫০ কিলোমিটার বলে জানানো হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে অন্ধ্র প্রদেশ ও ওডিশায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শুধু অন্ধ্র প্রদেশের কোনাসীমা জেলায় প্রায় ৬ হাজার বিদ্যুতের খুঁটি এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। এ পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। বিশাখাপত্তম ও বিজয়ওয়ারা বিমানবন্দর থেকে একাধিক ফ্লাইট এবং কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে এক থেকে দেড় মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় অন্ধ্র ও ওডিশার নিচু এলাকা থেকে এক লakh আশি হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ওডিশায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩১৩টি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন এবং দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘অর্ণব’ নামের এই ঘূর্ণিঝড়ের আংশিক প্রভাবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলাতেও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি এবং ঝড়ো হাওয়া বইছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে এই ঘূর্ণিঝড়ের বড় কোনো ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি নেই। তবে সাগর অত্যন্ত বিক্ষুব্ধ থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অর্ণবের প্রভাবে বুধবার দেশের আট বিভাগেই বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী শনিবার পর্যন্ত বিভিন্ন অঞ্চলে এই বৃষ্টিপাতের ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ জার্নাল
মন্তব্য করুন