
আন্তর্জাতিক বাজারে বৃহস্পতিবার এশিয়ার সেশন শুরু হওয়ার সাথে সাথে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা স্বস্তি আনলেও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ঝুঁকি বজায় থাকার কারণে দরপতনের পরিমাণ সীমিত থাকায় দাঁড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের চেয়ে ৮২ সেন্ট বা ০.৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ ডলার ৪ সেন্ট বা ১ শতাংশ নেমে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলার ৭৪ সেন্টে পৌঁছেছে। এর আগের দিন বুধবারে ব্রেন্টের দাম ১.৩ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছিল। বাজার পর্যবেক্ষকরা বৃহস্পতিবারের এই নেমান্নতিকে বুধবারের মূল্যবৃদ্ধির পর একটি প্রাকৃতিক সংশোধন হিসেবে দেখছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হवाले জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তেল বাজারে কিছুটা আশাবাদ জাগিয়েছে। ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরানের সുപریم ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহসেন রেজায়ির কাছে আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন। এই খবর বাজারে কিছুটা চাপ কমিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান এখনও অনিশ্চিত। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বেড়ে যাওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগের কারণে কাঁচা তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বজায় রয়েছে। এই কারণেই শান্তি আলোচনার আশায় দাম কমলেও পতনের গতি সীমাবদ্ধ থাকায় দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনগুলোতে আন্তর্জাতিক তেল বাজারের গতিপথ মূলত দুইটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে— কূটনৈতিক উদ্যোগগুলো কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কোন দিকে মোড় নেয়। বাজার অংশগ্রহণকারীরা এই দুটি ফ্যাক্টরকে নিয়ে সতর্কতা বজায় রেখেছেন।
মন্তব্য করুন