
দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে ৯ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্যের সুযোগ উন্মোচনের কথা দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের চিকিৎসা সরঞ্জাম খাতে আনুমানিক ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ডলার বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হলেছে বলে।
এস এম জিয়াউদ্দিন শুক্রবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৩০তম মার্কিন বাণিজ্য মেলার (ইউএস ট্রেড শো ২০২৬) দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা উদ্ভাবন ও বিনিয়োগবিষয়ক এক সেমিনারে একা বক্তব্য দেন। এ মেলায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাস যৌথভাবে আয়োজন করে।
মেলার দ্বিতীয় দিনে অ্যামচ্যামের হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মা সাব-কমিটির সহকারী প্রথম সেমিনার আয়োজন করে। সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জিয়াউদ্দিন জানান, চিকিৎসা সরঞ্জালে স্থানীয় উৎপাদন বাড়াতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ কর প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, দেশ ইতোমধ্যে নিজস্ব চাহিদার ৯৫ শতাংশের বেশি ওষুধ উৎপাদন করছে; তবে প্রস্তুত বাজার থাকা সত্ত্বেও ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার এই ব্যবসাটি এখনও আমদানিনির্ভর রয়ে গেছে।
এ কারণে তিনি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কর ছাড়ের সুবিধা দিচ্ছেন বলেন; যা চিকিৎসা সরঞ্জাম উৎপাদন খাতকে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন।
অধিবেশন পরিচালনা করেন বেকটন ডিকিনসনের কান্ট্রি বিজনেস লিডার মির্জা সজীব রায়হান। এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে মেডট্রনিক বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মায়াঙ্ক ত্রিপাঠি, স্কয়ার হাসপাতালের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সুলতান মিনহাজ উদ্দিন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. আক্তার হোসেন অংশ নেন।
দ্বিতীয় সেমিনারে ‘সিলেক্টইউএসএ: পাথওয়েজ ফর আউটবাউন্ড ইনভেস্টমেন্ট’ শিরোনামে আলোচনা হয় ঢাকার মার্কিন দূতাবাসে। এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য মার্কিন বাজারে সরাসরি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের বিভিন্ন সুযোগ নেওয়ার আলোচনা হয়। ট্রান্সকম গ্রুপের গ্রুপ সিইও সিমিন রহমান, ওমেরা পেট্রোলিয়ামের সিইও তানজিম চৌধুরী এবং পিডব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান অংশ নেন। এছাড়া ‘সিলেক্টইউএসএ’, মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা ভার্চুয়ালি এতে যুক্ত হন।
অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রে সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ, ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বিদ্যমান সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আমেরিকান কোম্পানিগুলো তাদের সর্বাধুনিক পণ্য, সেবা ও প্রযুক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে, যা মেলায় আগত দর্শনার্থী ও উদ্যোক্তাদের সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করছে।
গত ৫ নভেম্বর শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী মার্কিন বাণিজ্য মেলা আগামীকাল পারস্পরিক বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিবিষয়ক দুটি সেমিনারের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে।
মন্তব্য করুন