
বাংলাদেশের LNG‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি বিলম্বের আওঁচি, নতুন বিনিয়োগের ঝুঁকিতে সনাক্তা হল। আন্তর্জাতিক انرژی অর্থনীতিবিদ হ্যান্ডস‑অ্যান্ড‑ফিন্যান্স গবেষণা সংস্থা, ইস্ট এশিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (ইইইএফএ) তার “এলএনজি‑টু‑পাওয়ার ইন ইমার্জিং এশিয়া: আ ফাইভ‑ইয়ার রিভিউ অব প্রজেক্ট আউটকামস” রিপোর্টের মাধ্যমে এই বিষয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে। রিপোর্ট ৫ নভেম্বর (২০২৫) প্রকাশিত。
রিপোর্টের মতে, ২০২১‑এর পর আশীয় চারটি উদীয়মান এশিয়া দেশে—বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড—এর LNG‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও আমদানি টার্মিনালের প্রস্তাবিত সংখ্যায় অর্ধেকের বেশি বাতিল বা অপ্রসংগত অগ্রগতি দেখা গেছে। প্রস্তাবিত ৪৯টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২২টি টার্মিনালের মোট মূল্য ৬ হাজার ৭৮০ কোটি ডলার, যা বাস্তবায়িত প্রকল্পের মোট মূল্যের চার গুণ বেশি। এই সংখ্যায় ১১ শতাংশের নিচে електrical সক্ষমতা ও ১৫ শতাংশের নিচে টার্মিনাল সক্ষমতাের চরম குறைவு নিশ্চিত করেছে। বাস্তবায়ন করতে বাণিজ্যিক উৎপাদনদর গেলে সাধারণত ৭ বছর লাগে, dokumenteর অনুযায়ী সাধারণত ৩‑৪ বছর।
আরাম্ভিক LNG দাম $২০ এমএমবিটিইউ হলে, বাংলাদেশকে প্রতিটি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য ৬০ টাকারও বেশি ভর্তুকি দিতে হবে। তবে চলতি বছর সরবরাহ বিলামানার কারণে বাস্তবিক দাম বেড়ে গেছে, যা সরকারের আর্থিক চাপকে আরও বাড়ানোর কারণ হয়। এই পরিস্থিতিতে, LNG‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানির প্রতি ইউনিটের গড়‑ব্যয় (cost per unit electricity) ২০২১‑এর প্রাথমিক হিসাবের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৩০ পার্সেন্টের উচ্ছেদ হতে পারে, রিপোর্টের অনুযায়ী।
আরাধি LNG এর দাম ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর‑এ $২৭.৫ এমএমবিটিইউ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা সংঘাত‑শুরুর আগের দামের ত্রণা গুণ। ইউক্রেন‑রাশিয়া সংঘাত ও ২০২৫‑এর মধ্যপ্রাচ্য‑সংঘাতের পর বিশ্ববাজারে গ্যাস‑টারবাইনের দামের বৃদ্ধি, গ্যাস‑টারবাইন সরবরাহের দীর্ঘসূত্রতা এবং ডলারের ভ্যালু‑অপসারণের ফলে LNG‑ভিত্তিক প্রকল্পের আর্থিক সাপেক্ষা দুর্বল হচ্ছে। ব্যাংক‑কর্তা পেতে কঠিন হচ্ছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
বাংলাদেশে, ২০২১‑এর পর তিনটি LNG‑ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সক্রিয়। তবে উচ্চ LNG‑খরচের কারণে সরকারের ভর্তুকি বেড়ে গেছে, বিদেশি মোদের রিজার্ভ ধরে রাখতে দরকার অর্থায়ন বেশি নির্ভরযোগ্য হয়েছে, এবং গ্যাস‑সংকটের সমস্যা এখনও বজায় আছে। শফিকুল আলম (ইইইএফএ‑এর প্রধান জ্বালানিবিশ্লেষক) মতে, LNG‑মাত্র पर নির্ভরণ যথেষ্ট নয়; দেশের নিজস্ব গ্যাস‑সম্পদ ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি‑দক্ষতা উন্নতি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানের সম্প্রসারণের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। তিনি শিল্প‑ভিত্তিক গ্যাস‑চালিত বয়লার বদলে উচ্চ‑দক্ষতাসম্পন্ন হিট‑পাম্প ব্যবহারের সুপারিশ করেন, যা মর্যাদা‑দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উত্থাপন করে।
তালিকাভুক্ত চারটি দেশের সমস্যা তুলনামূলকভাবে দেখা গেলে:
– ফিলিপাইনে ২০২১‑এর পর বেশ কয়েকটি LNG প্রকল্প বাতিল, যার প্রধান কারণ ব্যাংক‑কর্তা‑পাওয়ার‑চুক্তি না করা। নতুন টার্মিনালের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা দুর্বল, এবং নবায়ন‑জ্বালানের বৃদ্ধি বিদ্যুৎ‑খাতের LNG‑চাহিদা কমানোর কারণে।
– ভিয়েতনামে LNG‑পারোডাকশন‑উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা রকমেও গত পাঁচ বছরয় মাত্র একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিক চালু হয়েছে। PPA‑এর অনিশ্চয়তা ও LNG‑কস্ট‑বৃদ্ধি সরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার আর্থিক অবস্থা پر চাপ সৃষ্টি করেছে।
– থাইল্যান্ডে গ্যাস‑ভিত্তিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন‑দ্রাবের তুলনামূলক অগ্রগতি আছে, তবে বিদ্যমান বিদ্যুৎ‑কেন্দ্র ও টার্মিনালের বড় অংশ এখনও অব্যবহৃত।
রিপোর্টের সহ‑লেখক ও গ্যাস‑বিষয়ক গবেষণা‑প্রধান স্যাম রেনল্ডস বলেছেন, তాజা জ্বালানি, যন্ত্রপাতি ও মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা এশিয়ার দেশগুলোতে LNG‑প্রকল্পের বাস্তবায়ন‑ঝুঁকি বাড়িয়েছে, এবং আর্থিক নিশ্চয়তা নাও করুণ হয়েছে; ফলে LNG‑প্রকল্পের অগ্রগতি বাহ্যিক গ্যাস‑শিল্পের প্রত্যাশার তুলনায় ধীর।
মন্তব্য করুন