
কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২০ অক্টোবর, ২০২৬) দিনের বেলায় ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কে মুখোশধারীদের একটি দল অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে লুটপাট চালায়। ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাকাতরা অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি চালায়, যার বেশির ভাগই সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল। শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট হয়।
ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদার গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে যানবাহনে লুটপাট চালিয়ে জঙ্গলে আত্মগোপন করেছে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তাদের ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে, তবে সন্ধ্যা পর্য়ন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চল এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে কতগুলো যানবাহনে লুটপাট হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, মুখোশধারীদের একটি দল ১০ থেকে ১২ জনের বেশি ছিল। তারা সড়কে যানবাহনের গতিরোধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে। পরে তাদের পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে টাকা ও মালামাল ছিনিয়ে নেয়। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, কয়েক ঘণ্টা ধরে লুটপাট চললেও ঘটনাস্থলে পুলিশের টহল ছিল না।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঈদগড় শাখার ব্যবস্থাপক মো. রবিউল ইসলাম জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি আরেকজনকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে মুখোশধারী ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র ব্যক্তি তাদের গতিরোধ করে। এরপর দুজনকে জঙ্গলে নিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের শরীর তল্লাশি করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
রবিউল ইসলামের ভাষ্য, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ডাকাতেরা ৫০ থেকে ৬০টি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করে লুটপাট চালায়। বেলা তিনটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করলেও কাউকে আটক করতে পারেনি। ঘটনার সময় সড়কে পুলিশের টহল ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরেকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঈদগড় শাখার হিসাবরক্ষক আবদুল হাকিম বলেন, তাঁরা তিনজন একটি অটোরিকশায় করে ঈদগাঁও বাজার থেকে ঈদগড় বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে সশস্ত্র ডাকাতেরা তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে তাদের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যাংকের চেকবই ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল হাকিম জানান, এই সড়কে প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও অহরহ ঘটছে। অথচ যাত্রীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
ঈদগড়ের বাসিন্দা মোহাম্মদ তারেকও ডাকাতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে পাঁচ যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশায় ঈদগাঁও থেকে ঈদগড় যাচ্ছিলেন। হিমছড়ি ঢালায় পৌঁছালে অটোরিকশাটি ডাকাতদের কবলে পড়ে। এ সময় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফ দিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়দের বক্তব্য, সোমবার সকাল ৮টা ও দুপুর ১২টার দিকে দুই দফায় এই সড়কে লুটপাট চালানো হয়। দুই দফায় দেড় ঘণ্টার মতো ডাকাতি চলে। তাঁদের দাবি, অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের যাত্রীরা এ সময় ডাকাতের কবলে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। লুট হওয়া যানবাহনের সঠিক সংখ্যা ও ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে। ঈদগাঁও–ঈদগড়–বাইশারী সড়কের গহিন বনাঞ্চলে টহল জোরদার করা হলেও সক্রিয় অপরাধী ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই ঘটনার পর যাত্রী ও চালকদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে স্থানীয়দের মাঝে। তাঁরা বলছেন, প্রায়ই এই সড়কে লুটপাটের ঘটনা ঘটে, যা যাত্রীদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিয়েছে।
মন্তব্য করুন