
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। বেসরকারী গণমাধ্যমের একটি অনুসন্ধান রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। ঘটনা কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের সন্দেহভাজন পাঁচজനെ গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারীদের কাছ থেকে বিপুল সংখ্যক প্রবেশপত্র, স্ট্যাম্প এবং ব্যাংক চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি পদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষা নির্ধারিত ছিল। প্রায় তিন লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় আড়াই ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্রের একটি কপি বেসরকারী গণমাধ্যমের হাতে পাওয়া যাওয়ার পর অধিদপ্তর পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। পরীক্ষার নতুন তারিখ ১৬ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তের জন্য অধিদপ্তর একটি কমিটি গঠন করেছে।
বেসরকারী গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল সন্দেহভাজন হিসেবে রুবেল ইসলাম নামের একজনের নাম এগিয়ে এসেছে। তিনি রংপুরে পরিবেশ অধিদপ্তরে ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে কর্মরত। অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রুবেল ইসলাম সরবরাহকৃত প্রশ্নপত্র কয়েক হাত ঘুরে পরীক্ষার দিন সকালে চাকরিপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছেছে। প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, শুধু এই পরীক্ষা নয়, সাম্প্রতিক বছরে আরও কয়েকটি সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে রুবেলের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তিনি কার কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়েছিলেন এবং চক্রের সাথে আরও কারা জড়িত, সেগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে।
বেসরকারী গণমাধ্যমের অনুসন্ধানের আলোকে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্তে शरीক হয়। তদন্তকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জানা মতে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখে তদন্ত চলছে।
মন্তব্য করুন