
ভূরুঙ্গামারীতে মাদ্রাসা সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে বেতন দাবি করে
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার সাইদুর রহমান ও অফিস সহকারী সফিয়ার রহমানকে বেতন দাবি করে শনিবার সকালে তাদের অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ থাকায় এ দাবি জানানো হয়। পরে বিকেলে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার ১৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারীর দাবি, ছয় মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। বেতন না পাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। এ কারণে শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না, যা মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
তারা জানান, প্রায় ছয় মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। মাদ্রাসা সুপার বেতন-বিলের কাগজে স্বাক্ষর দিতে গড়িমসি করছেন বলে বেতন বন্ধ রয়েছে। এর আগেও সাত মাস বেতন বন্ধ ছিল। সুপারের কারণে বারবার বেতন বন্ধের ঘটনা ঘটেছে। দ্রুত বেতন প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। সহকারী শিক্ষক রত্না পারভিন জানান, বেতন-ভাতা ছাড়া তাদের পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিতে পারছেন না তারা। বাধ্য হয়ে সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করছেন তারা।
সহকারী মৌলভী শিক্ষক আমিনুল ইসলাম জানান, বেতন-ভাতা না দেওয়া হলে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকবেন। বেতন-ভাতা প্রদান করা হলে তারা পাঠদানে ফিরবেন।
অবরুদ্ধ সুপার সাইদুর রহমান অফিস সহকারী সফিয়ার রহমানের উপর দোষ চাপান। তার ভাষ্য, আমি বেতন আটকাই নাই। বেতনের সকল কাগজপত্র প্রস্তুত করেছিলাম, সেগুলো অফিস সহকারী সফিয়ার রহমান ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
তবে অফিস সহকারী সফিয়ার রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জানান, শিক্ষকদের সাথে সমঝোতা করে তিনি বেতন দিবেন, এতে তার আপত্তি থাকার কথা নয়। তিনি সব মিথ্যা কথা বলছেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, বিকেলে সুপারকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে থানায় আনা হয়েছে। তাকে তার অভিভাবকের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান, মাদ্রাসার সুপার ও অফিস সহকারীকে অবরুদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে বিষয়টি সুরাহা করতে মাদ্রাসার সভাপতিকে অবহিত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন