
বাদ্যবাজারের ঐতিহ্যে প্রায় দশকের পর বাদ্যবাজার প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে ঢাকের হাটে স্থানীয় পরিবারগুলোর সাথে মুখোমুখি হয়ে আসছে। অতীতে কটিয়াদীর ঐতিহ্যবাহী হাট থেকে ঢাকি বায়না পাওয়ার প্রায় ১৮-২২ হাজার টাকা লাভ করার ঔপনвеদ্ধ প্রতিশ্রুতি রাখা হয়। বায়নার বিকল্প সূত্র হিসেবে তাদের কাজ করা এই দুই ভাইদের পেশায়ই। গৌরাঙ্গ মনি দাস এবং ছোট ভাই নৃত দাস প্রায় ২২ বছর ধরে প্রতিবছর ঢাকের ঐতিহ্যবাহী হাটে বাদ্যবাজানোর নিয়মিত সাংস্থানিক সুযোগ নিয়ে আছেন। তাদের পরিবারে স্ত্রী এবং এক ছেলে ও ছয় মেয়ে থাকে; দুই ভাইদের উপর নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জীবনযাপন এই হাটের মূল চালিকাভাস।
প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে বাদ্যবাজনার মৌসুমে তাদের সময় বেশ বেশি যোগাযোগ পাওয়া যায়। বড় ভাই গৌরাঙ্গ মনি দাস ঢাকে তাল বাজানোর তাল প্রতি চালের বিনিময়ে সম্প্রতি ২০-২২ হাজার টাকা পাওয়ার ধরন ঘটলেন। আগে এই বায়নার মানে ছিল ১৪-১৫ হাজার টাকা, কিন্তু সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার ফলে আবার বাড়ে যাওয়া বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। একজন দাস বলেছেন যে তার বয়স প্রায় ৭০ বছর, কিন্তু এখনও ঢাকির বাদ্যবাজানো পরিচালনা করছেন। তবে সংসারের জন্য তাদের পেশায় স্বতন্ত্র পরিবর্তন ঘটছে; ছোট ভাই নৃত দাসও ঢাকির বাদ্যবাজনা জানেন কিন্তু বর্তমানে তিনি কতারো বছর ধরে কতির জন্য কাজ করেন।
শহরের নবাবগঞ্জ থেকে ঢাকের কটিয়াদী বাসিন্দা গৌরাঙ্গ মনি দাস জাগো নিউজকে বলেছেন যে ঢাকের হাটে আসায় ঐতিহ্যটি প্রায় ৫০০ বছরের প্রথাকে ধারণ করে এবং এটি স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য অল্প কিছু বিনিয়োগ। গত বছর ছয়জন বায়না পেতে সহযোগিতা করে ৮০ হাজার টাকা লাভ করেছিলেন, এবার ৯০ হাজার টাকা পাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকির ব্যবসায়ীরা এখানে ভ্রমণ করেন এবং হাটের পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সদস্যরা কল্পনাত্মিকভাবে সমর্থন জানাচ্ছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন যে ঐতিহ্যবাহী কটিয়াদীর হাটের পরিবেশ উন্নয়ন ও ঢাকিদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য অগ্রসর করার প্রয়োজন থাকে। তারা শৌচাগার ও থাকার শেডের নির্মাণের প্রস্তাব করছেন। কটিয়াদী উপজেলার মডেল থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম লিখেছেন যে হাটের নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় নেতা দিলীপ কুমার সাহা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি জানাচ্ছেন যে শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে উদযাপন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের সমন্বয়ের মাধ্যমে পূজামণ্ডপে প্রাকৃতিক সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। গৌরাঙ্গ চন্দ্র বর্মণ, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা বলেছেন যে ঢাকির হাটে বারবার আসা সকলের জন্য আকর্ষণীয় হয় কারণ বাজানো কাঠিন কাজ থেকে আনন্দ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে বাজনার চালের বিনিময়ের মাত্রা চিন্তা করে তিনি নতুন বাজার শর্তস্থাপন করেছেন।
এই ঐতিহ্যগুলো সম্পর্কে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা এবং সম্পদ দিয়ে পরিবারের সংগ্রাম বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা প্রশাসনের সমন্বয়ে এই ঐতিহ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন