
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বর্তমানে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান একটি বিবৃতিতে বর্তমান ক্ষমতার অবস্থান সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। তার মতে, রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ প্রতিষ্ঠা করেছিল গণভোট তৈরি প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রসংস্কারের বক্তব্যের কারণে আইনি-প্রাতিষ্ঠানিক-আমলাতান্ত্রিক ইকোসিস্টেমের একচ্ছত্র দখলের পরিকল্পনা তৈরি হয়েছে।
বিবৃতিটি মোটামুটি ১৭ অক্টোবরের এক বছরের মধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে যখন ১৭ অক্টোবর রক্তস্নাত জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করেছিল। টিআইবির পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আসন্ন গঠনশীল সরকার তথা কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের হাতে রাষ্ট্রসংস্কারের অসম্ভাব্য পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। এই অবস্থায় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়নের সম্ভাবনা তৈরি দেওয়া হচ্ছে।
টিআইবি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা তৈরি মনে করছে। এছাড়াও ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রসংস্কার এজেন্ডা ও ‘জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের সম্মতি নেওয়া হয়েছে বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ৩১ দফা প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের অভাব এই প্রক্রিয়াকে জটিল করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের গণঅভ্যুত্থান সরকারি দলগুলোকে প্রভাবিত করছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট হয়ে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট প্রাপ্ত ছিল সংবিধান সংস্কারের সমর্থকের কাছে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক একচ্ছত্র ক্ষমতার চর্চার মোহে ‘জুলাই সন্দ’ প্রণয়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
টিআইবি বিরোধী দলেরও সমালোচনা করেছে। বিরোধী জোট মনে করে তাদের কারণে রাষ্ট্রসংস্কারে সহায়ক ভূমিকা ছেড়ে দলীয় রাজনৈতিক ফায়দা অর্জনের পথ পছন্দ করেছে। টিআইবি বলেছে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র শিক্ষা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় ‘জিম্মিদশায় আবদ্ধ’ হওয়ার ঝুঁকি রইল।
মন্তব্য করুন