
মৃত্যুর পর কী অপেক্ষা করছে মানুষের জন্য?
পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ মানুষ নানা স্বপ্ন ও অর্জনের পেছনে নিয়ে যায়। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যু মানুষের শেষ গন্তব্য নয়; বরং পরকালের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে ধরা হয়েছে। জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ অনেক সময় এই অনিবার্য পরিণতি ভুলে যায়।
মৃত্যু সবার জন্য নিশ্চিত ঘটনা, কিন্তু তা সংঘটিত হওয়ার সময়, স্থান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে কেউ নির্দিষ্ট জানে না। প্রতিটি মানুষ একদিন মৃত্যুবরণ করবে; তবু কখন, কোথায় বা কীভাবে তা কারও জানায়নি। কুরআনে প্রতিটি প্রাণের মৃত্যুকে একটি অনিবার্য অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর দুনিয়ার জীবন শেষ হলে বরযখ, পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের পর্যায় আসবে বলে ইসলামি বিশ্বাস রয়েছে।
মৃত্যুর মুহূর্তে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা, কবরের জীবন, শাস্তি বা জান্নাত—এসব প্রশ্নের উত্তর কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দেওয়া হয়েছে। ইসলামি তাফসীরে এ দৃশ্য জীবনের হিসাব নতুনভাবে করার কথা তুলে ধরে; জীবিত অবস্থায় যে সময় ও সুযোগ পেয়েছে, মৃত্যুর পর সেই সুযোগ আর নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা বা পার্থিব সাফল্য কেবল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে না।
বরযখ বলতে মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যবর্তী জীবন বোঝানো হয়েছে। এ সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে; ফেরাউনের অনুসারীদের কিয়ামতের আগে শাস্তির কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর মুহূর্তে মুমিন ও অবিশ্বাসীর অবস্থা নিয়ে রাসুল সা. সম্মান, রহমত, সুসংবাদ, কবরের প্রশ্ন, জান্নাতের সুসংবাদ ও কবর প্রশস্তি সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি মানুষের জন্য নির্ধারণ করা যায় না; কে জান্নাতি হবে, তা আল্লাহর দিকনির্দেশ অনুযায়ী ধরা হয়।
কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার উপদেশও উঠেছে। রাসুল সা. সাহাবিদের বিভিন্ন সময় উপদেশ দেন; এক হাদিসে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম শুধু পরকালের ভয় স্মরণ নয়; বরং সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও জীবন সংশোধনের পথও দেখানো হয়েছে।
কিয়ামতের দিন কী হবে, তা ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঘটে। বরযখ শেষে প্রত্যেকের হিসাব নিতে হবে; সৎকাজ ও অসৎকাজের বিবেচনা কুরআনে করা হয়েছে। পরকালের প্রস্তুতি কেবল ইবাদত নয়; দৈনন্দিন আচরণ, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যু অবধারিত হলেও সময় অজানা; তাই প্রতিটি মানুষকে জীবনকে সৎকর্মে লাগানো উচিত বলে ইসলামের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন