২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

‘মৃত্যুর পর কী অপেক্ষা করছে মানুষের জন্য?

মৃত্যুর পর কী অপেক্ষা করছে মানুষের জন্য?

পৃথিবীর জীবন ক্ষণস্থায়ী, অথচ মানুষ নানা স্বপ্ন ও অর্জনের পেছনে নিয়ে যায়। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যু মানুষের শেষ গন্তব্য নয়; বরং পরকালের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে ধরা হয়েছে। জীবনের ব্যস্ততায় মানুষ অনেক সময় এই অনিবার্য পরিণতি ভুলে যায়।

মৃত্যু সবার জন্য নিশ্চিত ঘটনা, কিন্তু তা সংঘটিত হওয়ার সময়, স্থান ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে কেউ নির্দিষ্ট জানে না। প্রতিটি মানুষ একদিন মৃত্যুবরণ করবে; তবু কখন, কোথায় বা কীভাবে তা কারও জানায়নি। কুরআনে প্রতিটি প্রাণের মৃত্যুকে একটি অনিবার্য অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, আর দুনিয়ার জীবন শেষ হলে বরযখ, পুনরুত্থান, হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদানের পর্যায় আসবে বলে ইসলামি বিশ্বাস রয়েছে।

মৃত্যুর মুহূর্তে ফিরে আসার আকাঙ্ক্ষা, কবরের জীবন, শাস্তি বা জান্নাত—এসব প্রশ্নের উত্তর কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় দেওয়া হয়েছে। ইসলামি তাফসীরে এ দৃশ্য জীবনের হিসাব নতুনভাবে করার কথা তুলে ধরে; জীবিত অবস্থায় যে সময় ও সুযোগ পেয়েছে, মৃত্যুর পর সেই সুযোগ আর নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থসম্পদ, সামাজিক মর্যাদা বা পার্থিব সাফল্য কেবল মৃত্যু থেকে রক্ষা করতে পারে না।

বরযখ বলতে মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মধ্যবর্তী জীবন বোঝানো হয়েছে। এ সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে; ফেরাউনের অনুসারীদের কিয়ামতের আগে শাস্তির কথা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। মৃত্যুর মুহূর্তে মুমিন ও অবিশ্বাসীর অবস্থা নিয়ে রাসুল সা. সম্মান, রহমত, সুসংবাদ, কবরের প্রশ্ন, জান্নাতের সুসংবাদ ও কবর প্রশস্তি সম্পর্কে হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট ব্যক্তির চূড়ান্ত পরিণতি মানুষের জন্য নির্ধারণ করা যায় না; কে জান্নাতি হবে, তা আল্লাহর দিকনির্দেশ অনুযায়ী ধরা হয়।

কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার উপদেশও উঠেছে। রাসুল সা. সাহাবিদের বিভিন্ন সময় উপদেশ দেন; এক হাদিসে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলাম শুধু পরকালের ভয় স্মরণ নয়; বরং সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি ও জীবন সংশোধনের পথও দেখানো হয়েছে।

কিয়ামতের দিন কী হবে, তা ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী পুনরুত্থানের মাধ্যমে ঘটে। বরযখ শেষে প্রত্যেকের হিসাব নিতে হবে; সৎকাজ ও অসৎকাজের বিবেচনা কুরআনে করা হয়েছে। পরকালের প্রস্তুতি কেবল ইবাদত নয়; দৈনন্দিন আচরণ, দায়িত্ববোধ ও অন্যের প্রতি ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। মৃত্যু অবধারিত হলেও সময় অজানা; তাই প্রতিটি মানুষকে জীবনকে সৎকর্মে লাগানো উচিত বলে ইসলামের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওমর সানীর স্নেহের আলিঙ্গন পরীমণির জন্মদিনে

১

হবিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক সন্দেহে একজন আটক

২

নগদের মাধ্যমে নভোএয়ারের টিকিট কিনলে ১০ শতাংশ ছাড়

৩

মেয়ের স্ট্যাটাসের কারণে বাবা কে পিটিয়ে হত্যা: প্রধান আসামী তুহিনের জামিন নামঞ্জুর

৪

সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ ও উচ্চকক্ষ ৬ বছর করার প্রস্তাব

৫

এবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গালে চুমু

৬

অক্টোবরের ২৪ দিনে এলো ২৬ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স

৭

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩২ হাজার টাকা করার দাবি আইবিসির

৮

মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে ট্রাকচাপায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নিহত

৯

জুলাইয়ে শেখ হাসিনার ছবি সরানো সেই জাবি অধ্যাপক হলেন পিএসসির সদস্য

১০

তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা: অধিকতর তদন্ত করবে সিআইডি

১১

সোমবার থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত যাবে মহানগর এক্সপ্রেস

১২

‘বিরিয়ানির ভাগ’ দিতে নারাজ বিএনপি: রাশেদ খাঁন

১৩

ইরান যুদ্ধ ও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ট্রাম্পকে তুলোধুনো করলেন ওবামা

১৪

বাংলাদেশ হারল পর্তুগালের কাছে

১৫

মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, পরিবার নিয়ে গাজীপুর ছাড়লেন রুমি

১৬

বিচ্ছেদের গুজব উড়িয়ে নতুন সিনেমার খবর দিলেন ফারুকী

১৭

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় আরও ৬ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার

১৮

দেশের ধনী পরিবারের শিশুদের রক্তে সিসা বেশি, ঝুঁকিতে মেধা ও বিকাশ

১৯

পিএইচপি ত্রুটি: সাইবার হামলার শিকার জনতা ব্যাংক

২০