
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি সামরিক শিবিরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন নিয়োগপ্রত্যাশী।
সোমবার (২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর) হামলার ঘটনা ঘটে বলে এপি জানিয়েছে। ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করলেও শাবওয়া প্রদেশিক সরকার বলছে, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ৫৩। কর্তৃপক্ষ বলছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা হামলার দায় স্বীকার করেছে। শিবিরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীতে নিয়োগের জন্য প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। প্রাদেশিক সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির পর্যায়ে থাকা নতুন নিয়োগপ্রত্যাশীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
একজন ইয়েমেনি সামরিক কর্মকর্তা জানান, নিয়োগপ্রত্যাশীরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকার সময় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শিবিরে আঘাত হানে। গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি।
হুতি বিদ্রোহীদের ও সৌদি আরব-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত পুনরায় তীব্র হওয়ার পর এই হামলাকে অন্যতম প্রাণঘাতী আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে কার্যত বিঘ্নিত করেছে।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, ইরান এবং লেবানন ও ইরাকের মিত্ররা হুতিদের সামরিক প্রশিক্ষণ, কারিগরি দক্ষতা ও উন্নত অস্ত্র সরবরাহে সহায়তা করছে। তবে ইরান হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহ জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করবে।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল-আলিমি হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরান-সমর্থিত হুতিরা চাপের মুখে পড়লে বা পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে এ ধরনের হামলার আশ্রয় নেয়।
অন্যদিকে, হুতিদের এক সামরিক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সৌদি কর্মকর্তাদের পরিচালনাধীন একটি শিবিরে হামলা করা হয়েছে এবং কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। সৌদি সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
শাবওয়া প্রদেশিক সরকার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট, সৌদি আরব-নেতৃত্বাধীন জোট এবং সরকারের কাছে দ্রুত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।
মন্তব্য করুন